Published : 20 Jun 2026, 04:55 AM
যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত সুপরিচিত চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি ইহলোক ত্যাগ করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। সমসাময়িক চিত্রকলা জগতে তিনি এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রচারক এরিকা বোল্টন আজ শুক্রবার এই মর্মান্তিক খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাঁর জন্মদিনের এক মাস আগে বৃহস্পতিবার লন্ডনে তিনি শান্তিতে চোখ বন্ধ করলেন। ষাটের দশকে পপ আর্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন হকনি এবং বিশ্বজুড়ে নিজেকে এক কিংবদন্তী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তাঁর চিত্রকলা ও প্রদর্শনী অব্যাহত রেখেছিলেন। টেলিগ্রাফের সঙ্গে তাঁর শেষ সাক্ষাৎকারে হকনি বলেছিলেন, ‘মানুষের কিছু বলার আছে, সেই কারণেই আমি এই কাজ করি।
’ যুক্তরাজ্য সরকার তাঁকে ১৯৯৭ সালে ‘কম্প্যানিয়ন অব অনার’ উপাধি দিয়ে সম্মান জানায়। এছাড়াও, চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা লাভ করেন। হকনির এই চলে যাওয়ার পর শিল্পসংক্রান্ত ইতিহাসবিদ রিচার্ড মরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেছেন যে, তিনি জটিল চিত্রকর্মগুলিকে সরলভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। ব্রিটিশ শিল্পকলা এক বিশাল ব্যক্তিত্বকে হারাল। তিনি ১৯৯৯ ও ২০১৭ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিখ্যাত পম্পিদো সেন্টারের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন। পম্পিদো সেন্টার নিশ্চিত করেছে যে ডেভিড হকনির রেখে যাওয়া সৃষ্টিগুলি ‘উজ্জ্বল, জীবন্ত এবং চিরন্তন’ হয়ে থাকবে। ২০১৮ সালে তাঁর আঁকা ‘পোর্ট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট’ নিউইয়র্কে বিপুল অর্থ উপার্জন করে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। ১৯৩৭ সালে উত্তর ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ডে জন্ম হকনি।
অল্প বয়সেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি একজন শিল্পী হতে চান। তিনি ব্র্যাডফোর্ড স্কুল অব আর্ট এবং পরবর্তীতে লন্ডনের রয়্যাল কলেজে প্রশিক্ষণ নেন, যেখানে তিনি স্বর্ণপদকসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজটি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছে, হকনি আজীবন শিল্পকলায় এক ‘অবিসংবাদিত কণ্ঠ’ ছিলেন। টেলিগ্রাফের শেষ মন্তব্যে হকনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি চিত্রকর্মে হুবহু মিল আনার চেষ্টা করি। অন্যদের কী মনে হয় তা আমার কিছু যায় আসে না, আমি যা অনুভব করি, সেটাই আসল। যখন আমি ছবি আঁকি, তখনই আমি সবচেয়ে বেশি সুখী থাকি।’।
কানাডীয় শিল্পপতির হাতে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর প্রায় ২৮ শতাংশ শেয়ার